সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আরেক অভিনব প্রপোজ স্টাইল

সাহির নেওয়াজ [রাজ্যহীন স্বপ্নরাজ]
- হ্যালো , নীলা বলছো ?
: হুম , কে বলছো ?
- আ...আমি... [তোতলাচ্ছি]
: আ..আমি টা কে ? [ওপাশের রাগী গলা ।]
- আ...আ...আমি [কথা ভুলে গেছি , দুনিয়া তে এখন একটাই
শব্দ মনে আছে !  ]
: ধুরররর [ঐপাশ থেকে মুখ খারাপ করা কিছু গালি ভেসে
এলো এবং ট্যাঁট ট্যাঁট করে ফোনটাও কেটে গেলো ।]
গত একবছরে এটাই আমার গল্প । আমি ভাল থাকার জন্যে
ভাল রাখার সিম আর পাশে টানার জন্য পাশে আনার
সিম [অবশ্যি শতাধিক] কিনেও কোন সুবিধা করতে
পারলাম না ! নীরভানা নীলা নামের এই ভয়াবহ রাগী
মেয়েটাকে কি কারণে এতো ভাল লাগে আমি জানি না
, শুধু এটা জানি প্রচন্ড গরমে বা খুব রেগে গেলে যখন ওর
গালে আবীর জন্মে আমার ওকে ছুঁয়ে দিতে ইচ্ছা হয় !
কিংবা যখন ক্লাসে কারো ব্যাগে তেলাপোকা ছেড়ে
দিয়ে কুটনামি করার পরম আনন্দে হাসে তখন ওর কপালের
চুল গুলো সরিয়ে দিয়ে ওকে দেখতে ইচ্ছা হয় ! কিন্তু কথা
বলতে গেলেই সমস্যা । আমি ছাড়া অন্য শব্দ মাথাতেই
আসে না !
শেষ মেষ একবুদ্ধি নিলাম , অবশ্যিই ধার করা , আমি চরম
লেভেলের গাধা টাইপ মানুষ , ভালবাসি বলতে একবছর
পার করলাম বলতে পারলাম না এসব বুদ্ধি আমার মাথায়
আসার প্রশ্ন ই আসেনা ।
পরদিন একটা চটের ব্যাগে একটা আর্টপেপার , একটা
ক্যান্ডেল , একজোড়া ১৫০টাকা দামের স্যান্ডেল , একটা
পায়েল নিয়ে ভার্সিটি গেলাম । ক্লাস শেষ হলে ব্যাগ
টা নীলার হাতে দেয়ার সাহস আমার হলো না !
আরেক বন্ধুকে একটা আইসক্রীম দিয়ে ম্যানেজ করলাম ।
ও কেমন করে দিবে আমার জানা নাই তবে আমার এ
বন্ধুটি খুব ই কঠোর পরিশ্রমী দিবে যে সন্দেহ নাই । শুধু
এতটুকু গ্যারান্টি রাখতে হবে যে রাত ১২টা পর্যন্ত
ব্যাগটা নীলা ওর বাসায় রাখবে ।
রাতে ওকে মেসেজ দিলাম একটু কষ্ট করে মোমটা
জ্বালাও । আর্ট পেপার টাকে মোমের সামনে মেলে
ধরো । প্লিজ এতটুকু করো প্লিজ ।
সারারাত আল্লাহ আল্লাহ করলাম পরদিন কপালে জুতা
না প্রিয়তা কি আছে তা ভেবে !
নীলা মেসেজ পড়ে একটু অবাক হলো ।
আর্টপেপারটা জ্বলন্ত মোমের সামনে ধরতেই লেখাটা
ফুটে উঠলো
একবছর ধরে তোমাকে ফোন করে আমি শব্দটা ছাড়া কিছু
বলতে পারিনি । বাকি শব্দ দুটো হল তোমাকে ভালবাসি ।
তুমি যদি না চাও তবে কিছু বলতে হবে না জুতো টা পড়ে
এসো আর যদি তোমার আপত্তি না থাকে তবে পায়েলটা
কখনো খুলো না ।
পরদিন সকালে আমাকে নীলা ফোন দিয়ে যা বলল
তার কিছুটা এরকম :
-ঐ গাধা ! একবছর ধরে তিনটা শব্দ বলতে পারোনা
ফিচলামি বুদ্ধিতো নিয়ে ঠিক ই ঘুরো ! বাই দ্য ওয়ে
জুতোটাও আমার পছন্দ হয়েছে কি করি ?
: আমি..আমি..
-ঐ গাধা পায়েলটা কি আমিই পরবো না তুমি পরায়ে
দিবা ?
ফোনের এপাশ থেকে চিঁচিঁ করে বললাম,
"আমি...আমি..আমি.."
ঐপাশ থেকে নিবেদিতা বলল,
"হায়রে গাধারে !"
এপাশ থেকে বললাম,
"আমি .. আমি .. আমি.."

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অপূর্ণতার গল্প

ভাইয়া চল না আজ রাসেল ভাইদের কলেজ থেকে ঘুড়ে আসি,,,,, কেন?? কোন অনুষ্ঠান আছে?? হ্যাঁ,, ভাইয়া,, ঠিক আছে তুই যখন বের হবি তখন আমাকে সাথে নিয়ে যাস,,,,, অনেক দিন পর কোন অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছি...

Tumi chaile piran khan Ft. Jony

Tumi chaile piran khan Ft. Jony Lyric Published : Tafsin ahmed Evan Lyric: তুমি চাইলেই ঠিকি পারতে, ছায়া হয়ে পাশে থাকতে, তুমি পাগল এ আমি টাকে, বুকে জড়িয়ে রাখতে। তুমি চাইলে ঠিকি পারতে, ভালবাসা টুকু বাচিয়ে রাখতে, শত রঙে সাজিয়ে তাকে, আমায় ...

পিচ্চি বলতে কিছুই নেই,সবাই সব কিছু বোঝে..

০৫-০৭-২০১০ মেয়েটির নাম রিহা,সাদিয়া রিহা। বয়সে আমার বছর তিনেক ছোট হবে। ছোট মেয়েদের উপর ক্রাশ খাওয়ার মত এত বড় বিড়ম্বনা আর নেই। যেই মেয়েটি ভাইয়া ভাইয়া বলে গলা ফাটায় তাকে কখনো ভালোবাসার কথা বলা যায়? তাকে ভালোবাসাটাও তো অন্যায়। আর আমি সে অন্যায়ই করেছিলাম। আজকে সেই গল্পই বলছি। ভালো লাগতো খুব ওকে কিন্তু কখনো মুখ ফুটে বলা হয় নি পাছে ওর মনে একটা বিরূপ ধারনা জমে এই ভেবে যে যাকে বড় ভাইয়া বলে ভাবলাম এতদিন আজ সে ও ভালোবাসার কথা বলছে!!! তাই আর কখনো বলা হয়নি ভালোবাসার কথা। ওর সাথে প্রতিদিন দেখা হতো। আমি রাস্তার মোড়ে চায়ের দোকানে বসে থাকতাম,ও কলেজে যেত। কিংবা আমি যখন বিকেলে বাসার সামনের গলিতে ক্রিকেট খেলতাম,ও কোচিং থেকে ফিরতো। যতবার দেখা হতো ততবারই কথা হতো। ও নিজে থেকেই বলতো। এই যেমন "কি ভাইয়া, আজকে কি হাফ সেঞ্চুরি হবে?" অথবা "রেড টি শার্টে তো আপনাকে দারূণ লাগে ভাইয়া।" আমি ও হেসে উত্তর দিতাম। মাঝেমাঝে মজা করতাম,এই যেমন, "কি প্রতিদিনই কি তোমার কোচিং থাকে? নাকি কারো সাথে দেখা করতে যাও।" ভালো একটা সম্পর্কই ছিল বলা চল...