সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

Freedom

 আমি হয়ত ফ্রান্সিস কাফকার মতো করে বলতে পারি- "I am nothing to anyone  and that will be my greatest freedom"
সাম্প্রতিক পোস্টগুলি

নিরু ও কিছু অসমাপ্ত অপেক্ষা (অন্তিম পর্ব)

শেষ অধ্যায় সেদিন সন্ধ্যায় আরিয়ান বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল। রাস্তার দিকে তাকাতেই তার চোখ পড়ল পরিচিত একটি বাদামি শরীরের ওপর। নিরু। আগের তুলনায় অনেক শুকিয়ে গেছে। পিঠের লোম এলোমেলো। এক পা একটু টেনে হাঁটছে। আরিয়ান নিচু হয়ে ডাকল, "নিরু! এই নিরু! আয় তো!" নিরু মাথা তুলল। ডাকটি তার চেনা। সে ধীরে ধীরে এগিয়ে এল। আরিয়ান একটা বিস্কুট এগিয়ে দিল। "নে, খা।" নিরু বিস্কুটটি মুখে নিল। তারপর আরিয়ানের পায়ের কাছে বসে পড়ল। আরিয়ান তার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল, "জানিস নিরু, তোকে যদি ঘরে আনতাম, হয়তো এত ঝামেলা হতো না।" নিরু তার দিকে তাকিয়ে রইল। "তুই তো কখনো এমন করতিস না। একটু খাবার দিলেই খুশি হয়ে যেতিস। কাছে ডাকলে চলে আসতিস।" আরিয়ান হেসে বলল, "কিন্তু তোকে ঘরে রাখা সম্ভব ছিল না রে। তুই তো রাস্তার কুকুর।" কিছুক্ষণ নীরবতা। তারপর আরিয়ান বলল, "আমার বিড়ালটা দেখতে খুব সুন্দর। কিন্তু কী যে অবিশ্বাসী! একটু আদর করতে গেলেই খামচি দেয়। খাবার নষ্ট করে। কখনো কখনো মনে হয়, এত যত্ন করার পরও ও আমাকে একটুও আপন ভাবে না।" নিরু তখনো তার পায়ের কাছে বসে ছিল। আরিয়ান বিস্কুটের প্যাকেট ব...

নিরু ও কিছু অসমাপ্ত অপেক্ষা (পর্ব -৪)

পঞ্চম অধ্যায় | যে ঘরে জায়গা হলো, যে জীবনে হলো না সন্ধ্যায় আরিয়ান নিজের ঘরে ফিরে এল। বিড়ালটি বিছানায় বসে ছিল। আরিয়ান তার কাছে গিয়ে আদর করতে চাইল। বিড়ালটি আবারও খামচি দিল। "আহ! আবার!" আরিয়ান হাত সরিয়ে নিল। কিছুক্ষণ বিড়ালটির দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, "তুই কি কোনোদিন আমাকে একটু শান্তি দিবি না?" বিড়ালটি জানালার দিকে চলে গেল। আরিয়ান বিছানায় বসে পড়ল। ঘরটি সুন্দর। বিছানাটি নরম। খাবারের পাত্র ভর্তি। বিড়ালটির জন্য সবকিছু আছে। তবু কোথাও যেন শান্তি নেই। সে হঠাৎ ভাবল, নিরু থাকলে হয়তো এখন তার পায়ের কাছে বসে থাকত। কোনো অভিযোগ করত না। খাবার চাইত না। শুধু একটু মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়ার অপেক্ষা করত। কিন্তু নিরু নেই। আর থাকলেও তাকে এই ঘরে ঢুকতে দেওয়া হতো না। কারণ তার গায়ের লোমে ধুলো লেগে আছে। পায়ে রাস্তার কাদা। শরীরে পথের গন্ধ। সে আরিয়ানের পরিবারের সামনে মানানসই নয়। আত্মীয়দের সঙ্গে ছবি তোলার মতো সুন্দর নয়। সামাজিক পরিচয়ের জন্য উপযুক্ত নয়। তাই তার জন্য বাড়ির দরজার বাইরে একটা পৃথিবী বরাদ্দ ছিল। যেখানে বৃষ্টি হলে ভিজতে হবে, ক্ষুধা লাগলে খুঁজে খেতে হবে, অসুস্থ হলে একা পড়ে থাকতে হবে। আর যখন আরি...

নিরু ও কিছু অসমাপ্ত অপেক্ষা (পর্ব -৩)

  তৃতীয় অধ্যায় | একটি অনুপস্থিতির গল্প পরদিন সকালে আরিয়ান বাড়ি থেকে বেরিয়ে দেখল, গেটের পাশে নিরু নেই। সে আশপাশে তাকাল। "নিরু!" কোনো উত্তর নেই। চায়ের দোকানের বৃদ্ধ তখন দোকান খুলছিলেন। আরিয়ান জিজ্ঞেস করল, "চাচা, ওই কুকুরটাকে দেখেছেন? কয়েক দিন ধরে তো দেখি না।" বৃদ্ধ চুপচাপ আরিয়ানের দিকে তাকালেন। "দেখেছি বাবা।" "কোথায়?" "গতকাল রাতে ওই ডাস্টবিনের পাশে ছিল। খুব দুর্বল দেখাচ্ছিল।" আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল, "আচ্ছা, ঠিক আছে।" বৃদ্ধ এবার একটু থেমে বললেন, "একটা কথা বলব বাবা?" "জি, বলেন।" "তুমি যখন একা থাকো, তখন ওকে ডাকো। আর যখন তোমার চারপাশে মানুষ থাকে, তখন ওকে তাড়িয়ে দাও। কখনো ভেবেছ, ওর পৃথিবীতে তুমি ছাড়া আর কেউ আছে কি না?" আরিয়ান কোনো উত্তর দিল না। বৃদ্ধ আবার বললেন, "ও তোকে খুব বিশ্বাস করত বাবা। বিশ্বাসটা একবার ভেঙে গেলে প্রাণীরা হয়তো কিছু বলে না, কিন্তু একসময় অপেক্ষা করাও বন্ধ করে দেয়।" আরিয়ান মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। সেদিন প্রথমবার তার মনে হলো, নিরুকে সে হয়তো কখনো সত্যিকারের আপন...

নিরু ও কিছু অসমাপ্ত অপেক্ষা (পর্ব -২)

  দ্বিতীয় অধ্যায় | যে অপেক্ষার কোনো শেষ ছিল না বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে। পুরোনো বাড়িটার সামনে একটা কৃষ্ণচূড়া গাছ। গাছের নিচে বসে আছে নিরু। চোখ দুটো রাস্তার দিকে স্থির। মাঝে মাঝে কোনো গাড়ির শব্দ শুনলেই কান খাড়া করে তাকাচ্ছে। পাশের চায়ের দোকানের বৃদ্ধ লোকটি নিরুকে বেশ কয়েক দিন ধরেই লক্ষ করছেন। তিনি দোকান থেকে বেরিয়ে এসে বললেন, "কী রে বাপু, আবার এখানে বসে আছিস? সারাদিন তোকে দেখি এই গেটের সামনে।" নিরু একবার বৃদ্ধের দিকে তাকাল। তারপর আবার গেটের দিকে। বৃদ্ধ একটা শুকনো রুটির টুকরো এগিয়ে দিলেন। "নে, খেয়ে নে। যার জন্য বসে আছিস, সে তোকে আজও ডাকবে বলে মনে হয় না।" নিরু রুটির দিকে তাকাল, কিন্তু খেল না। সে শুধু গেটের দিকে তাকিয়ে রইল। হয়তো তার কাছে বাড়ি মানে কোনো চার দেয়াল নয়। বাড়ি মানে একজন মানুষ, যার কাছে ফিরে যাওয়ার একটা অনুমতি আছে। "নিরুর কোনো বাড়ি ছিল না। তবু সে প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট দরজার সামনে অপেক্ষা করত। কারণ তার কাছে বাড়ি মানে চার দেয়াল নয়, বাড়ি মানে একজন মানুষ।" সেদিন রাতে আরিয়ান বাড়ি ফিরছিল। গাড়ি থেকে নামতেই নিরু তাকে দেখতে পেল। "আরে! নিরু! এই নিরু!...