সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

নিরু ও কিছু অসমাপ্ত অপেক্ষা (পর্ব -৪)

পঞ্চম অধ্যায় | যে ঘরে জায়গা হলো, যে জীবনে হলো না সন্ধ্যায় আরিয়ান নিজের ঘরে ফিরে এল। বিড়ালটি বিছানায় বসে ছিল। আরিয়ান তার কাছে গিয়ে আদর করতে চাইল। বিড়ালটি আবারও খামচি দিল। "আহ! আবার!" আরিয়ান হাত সরিয়ে নিল। কিছুক্ষণ বিড়ালটির দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, "তুই কি কোনোদিন আমাকে একটু শান্তি দিবি না?" বিড়ালটি জানালার দিকে চলে গেল। আরিয়ান বিছানায় বসে পড়ল। ঘরটি সুন্দর। বিছানাটি নরম। খাবারের পাত্র ভর্তি। বিড়ালটির জন্য সবকিছু আছে। তবু কোথাও যেন শান্তি নেই। সে হঠাৎ ভাবল, নিরু থাকলে হয়তো এখন তার পায়ের কাছে বসে থাকত। কোনো অভিযোগ করত না। খাবার চাইত না। শুধু একটু মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়ার অপেক্ষা করত। কিন্তু নিরু নেই। আর থাকলেও তাকে এই ঘরে ঢুকতে দেওয়া হতো না। কারণ তার গায়ের লোমে ধুলো লেগে আছে। পায়ে রাস্তার কাদা। শরীরে পথের গন্ধ। সে আরিয়ানের পরিবারের সামনে মানানসই নয়। আত্মীয়দের সঙ্গে ছবি তোলার মতো সুন্দর নয়। সামাজিক পরিচয়ের জন্য উপযুক্ত নয়। তাই তার জন্য বাড়ির দরজার বাইরে একটা পৃথিবী বরাদ্দ ছিল। যেখানে বৃষ্টি হলে ভিজতে হবে, ক্ষুধা লাগলে খুঁজে খেতে হবে, অসুস্থ হলে একা পড়ে থাকতে হবে। আর যখন আরি...
সাম্প্রতিক পোস্টগুলি

নিরু ও কিছু অসমাপ্ত অপেক্ষা (পর্ব -৩)

  তৃতীয় অধ্যায় | একটি অনুপস্থিতির গল্প পরদিন সকালে আরিয়ান বাড়ি থেকে বেরিয়ে দেখল, গেটের পাশে নিরু নেই। সে আশপাশে তাকাল। "নিরু!" কোনো উত্তর নেই। চায়ের দোকানের বৃদ্ধ তখন দোকান খুলছিলেন। আরিয়ান জিজ্ঞেস করল, "চাচা, ওই কুকুরটাকে দেখেছেন? কয়েক দিন ধরে তো দেখি না।" বৃদ্ধ চুপচাপ আরিয়ানের দিকে তাকালেন। "দেখেছি বাবা।" "কোথায়?" "গতকাল রাতে ওই ডাস্টবিনের পাশে ছিল। খুব দুর্বল দেখাচ্ছিল।" আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল, "আচ্ছা, ঠিক আছে।" বৃদ্ধ এবার একটু থেমে বললেন, "একটা কথা বলব বাবা?" "জি, বলেন।" "তুমি যখন একা থাকো, তখন ওকে ডাকো। আর যখন তোমার চারপাশে মানুষ থাকে, তখন ওকে তাড়িয়ে দাও। কখনো ভেবেছ, ওর পৃথিবীতে তুমি ছাড়া আর কেউ আছে কি না?" আরিয়ান কোনো উত্তর দিল না। বৃদ্ধ আবার বললেন, "ও তোকে খুব বিশ্বাস করত বাবা। বিশ্বাসটা একবার ভেঙে গেলে প্রাণীরা হয়তো কিছু বলে না, কিন্তু একসময় অপেক্ষা করাও বন্ধ করে দেয়।" আরিয়ান মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। সেদিন প্রথমবার তার মনে হলো, নিরুকে সে হয়তো কখনো সত্যিকারের আপন...

নিরু ও কিছু অসমাপ্ত অপেক্ষা (পর্ব -২)

  দ্বিতীয় অধ্যায় | যে অপেক্ষার কোনো শেষ ছিল না বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে। পুরোনো বাড়িটার সামনে একটা কৃষ্ণচূড়া গাছ। গাছের নিচে বসে আছে নিরু। চোখ দুটো রাস্তার দিকে স্থির। মাঝে মাঝে কোনো গাড়ির শব্দ শুনলেই কান খাড়া করে তাকাচ্ছে। পাশের চায়ের দোকানের বৃদ্ধ লোকটি নিরুকে বেশ কয়েক দিন ধরেই লক্ষ করছেন। তিনি দোকান থেকে বেরিয়ে এসে বললেন, "কী রে বাপু, আবার এখানে বসে আছিস? সারাদিন তোকে দেখি এই গেটের সামনে।" নিরু একবার বৃদ্ধের দিকে তাকাল। তারপর আবার গেটের দিকে। বৃদ্ধ একটা শুকনো রুটির টুকরো এগিয়ে দিলেন। "নে, খেয়ে নে। যার জন্য বসে আছিস, সে তোকে আজও ডাকবে বলে মনে হয় না।" নিরু রুটির দিকে তাকাল, কিন্তু খেল না। সে শুধু গেটের দিকে তাকিয়ে রইল। হয়তো তার কাছে বাড়ি মানে কোনো চার দেয়াল নয়। বাড়ি মানে একজন মানুষ, যার কাছে ফিরে যাওয়ার একটা অনুমতি আছে। "নিরুর কোনো বাড়ি ছিল না। তবু সে প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট দরজার সামনে অপেক্ষা করত। কারণ তার কাছে বাড়ি মানে চার দেয়াল নয়, বাড়ি মানে একজন মানুষ।" সেদিন রাতে আরিয়ান বাড়ি ফিরছিল। গাড়ি থেকে নামতেই নিরু তাকে দেখতে পেল। "আরে! নিরু! এই নিরু!...

নিরু ও কিছু অসমাপ্ত অপেক্ষা (পর্ব -১)

  প্রথম অধ্যায় | একটি ডাকের অপেক্ষায় "নিরু! এই নিরু! এদিকে আয়, সোনা!" ডাকটা শোনা মাত্রই নিরু মাথা তুলে তাকাল। মুখের সামনে পড়ে থাকা আধখাওয়া রুটির টুকরোটা ফেলে সে এক লাফে উঠে দাঁড়াল। তারপর লেজ নাড়তে নাড়তে ছুটে গেল রাস্তার ওপারে। কয়েক মুহূর্ত আগেও বৃষ্টির পানিতে ভেজা ফুটপাতের এক কোণে গুটিসুটি মেরে শুয়ে ছিল সে। শরীরের লোমগুলো কাদায় মাখামাখি, পেটটা ক্ষুধায় প্রায় পিঠের সঙ্গে লেগে গেছে। পাশেই একটা উপচে পড়া ডাস্টবিন। সারারাত সেখানেই কাটিয়েছে সে। বৃষ্টি থামার পরও কেউ তাকে একবারের জন্য জিজ্ঞেস করেনি, তার খুব শীত করছে কি না। অথচ একটা ডাকই যথেষ্ট। "কী রে নিরু! আমাকে ভুলে গেছিস নাকি?" আরিয়ানের পরিচিত কণ্ঠ শুনে নিরু আরও কাছে এগিয়ে গেল। মানুষটার পায়ের কাছে বসে লেজ নাড়তে লাগল। একবার পায়ের ওপর মুখ রাখল, আরেকবার মাথাটা তুলে তার মুখের দিকে তাকাল। আরিয়ান পকেট থেকে কেকের একটা ছোট টুকরো বের করে তার সামনে ছুড়ে দিলেন। "নে, খা। আজ তোকে কেক খাওয়াব।" নিরু কেকের টুকরোটার দিকে তাকাল। তারপর আরিয়ানের দিকে। যেন খাবারটার চেয়েও মানুষটার মুখে হাসিটা তার কাছে বেশি মূল্যবান। আরিয়ান ফোনে কথা ব...

...অবশেষে সমাপ্তি

  অবশেষে সমাপ্তি, সকল চাওয়া, সকল অভিযোগ, সকল অভিমান, এবং সকল অপেক্ষার সমাপ্তি।   এটা আমার জীবনের অনেক বড় একটা জার্নি ছিলো। অনেক কিছু শিখলাম অনেক কিছুই পেলাম বিনিময়ে অনেক কিছু ছেড়েও দিলাম.... আমার স্মৃতি আমার পাওয়া অনুভূতি গুলো স্বযত্নে রেখে দিচ্ছি নিজের খুব কাছে।  আমার না পাওয়া, আমার দুঃখ গুলো, আমার প্রশ্ন গুলো, আমার অভিমান গুলো, আমার আক্ষেপ গুলো এই অনুভূতি গুলো এখানেই রেখে চলে যাচ্ছি। সব কিছুর শুরু ছিলো একটি মিষ্টি মধুর কন্ঠস্বরের মাঝে দিয়ে, সমাপ্তিটাও হলো সেই মিষ্টি মধুর কন্ঠস্বরের মাধ্যমেই। এইতো.... অনেক তো লেখা হয়েছে অনুভুতির গল্প এবার না হয় সামনে এগুনো যাক.... এখানে আমি কখনোই আমার সুন্দর অনুভূতি জমা করতে পারিনি, যাবার বেলায় একটা সুন্দর অনুভূতি রেখে যাই- " কাউকে কাছে থেকে না দেখেই এতো সুন্দর অনুভূতির সৃষ্টি হতে পারে এটা আমার আগে কখনোই জানা ছিলোনা। একদিন তাকে বললাম- "কিরে, ঘটনা কি? সামথিং সামথিং?? সে মৃদু হেসে বলেছিলো, নাথিং নাথিং। অবশেষ    ভয়ে ভয়ে বলেই ফেললো, আমি মনে হয় তোকে ভালোবাসি!" কি দারুন একটা অনুভূতি! জীবনের প্রথম আমি দেখেছিলাম কেউ আমার জন্যে শাড়ি পড়ে...