পঞ্চম অধ্যায় | যে ঘরে জায়গা হলো, যে জীবনে হলো না সন্ধ্যায় আরিয়ান নিজের ঘরে ফিরে এল। বিড়ালটি বিছানায় বসে ছিল। আরিয়ান তার কাছে গিয়ে আদর করতে চাইল। বিড়ালটি আবারও খামচি দিল। "আহ! আবার!" আরিয়ান হাত সরিয়ে নিল। কিছুক্ষণ বিড়ালটির দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, "তুই কি কোনোদিন আমাকে একটু শান্তি দিবি না?" বিড়ালটি জানালার দিকে চলে গেল। আরিয়ান বিছানায় বসে পড়ল। ঘরটি সুন্দর। বিছানাটি নরম। খাবারের পাত্র ভর্তি। বিড়ালটির জন্য সবকিছু আছে। তবু কোথাও যেন শান্তি নেই। সে হঠাৎ ভাবল, নিরু থাকলে হয়তো এখন তার পায়ের কাছে বসে থাকত। কোনো অভিযোগ করত না। খাবার চাইত না। শুধু একটু মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়ার অপেক্ষা করত। কিন্তু নিরু নেই। আর থাকলেও তাকে এই ঘরে ঢুকতে দেওয়া হতো না। কারণ তার গায়ের লোমে ধুলো লেগে আছে। পায়ে রাস্তার কাদা। শরীরে পথের গন্ধ। সে আরিয়ানের পরিবারের সামনে মানানসই নয়। আত্মীয়দের সঙ্গে ছবি তোলার মতো সুন্দর নয়। সামাজিক পরিচয়ের জন্য উপযুক্ত নয়। তাই তার জন্য বাড়ির দরজার বাইরে একটা পৃথিবী বরাদ্দ ছিল। যেখানে বৃষ্টি হলে ভিজতে হবে, ক্ষুধা লাগলে খুঁজে খেতে হবে, অসুস্থ হলে একা পড়ে থাকতে হবে। আর যখন আরি...
তৃতীয় অধ্যায় | একটি অনুপস্থিতির গল্প পরদিন সকালে আরিয়ান বাড়ি থেকে বেরিয়ে দেখল, গেটের পাশে নিরু নেই। সে আশপাশে তাকাল। "নিরু!" কোনো উত্তর নেই। চায়ের দোকানের বৃদ্ধ তখন দোকান খুলছিলেন। আরিয়ান জিজ্ঞেস করল, "চাচা, ওই কুকুরটাকে দেখেছেন? কয়েক দিন ধরে তো দেখি না।" বৃদ্ধ চুপচাপ আরিয়ানের দিকে তাকালেন। "দেখেছি বাবা।" "কোথায়?" "গতকাল রাতে ওই ডাস্টবিনের পাশে ছিল। খুব দুর্বল দেখাচ্ছিল।" আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল, "আচ্ছা, ঠিক আছে।" বৃদ্ধ এবার একটু থেমে বললেন, "একটা কথা বলব বাবা?" "জি, বলেন।" "তুমি যখন একা থাকো, তখন ওকে ডাকো। আর যখন তোমার চারপাশে মানুষ থাকে, তখন ওকে তাড়িয়ে দাও। কখনো ভেবেছ, ওর পৃথিবীতে তুমি ছাড়া আর কেউ আছে কি না?" আরিয়ান কোনো উত্তর দিল না। বৃদ্ধ আবার বললেন, "ও তোকে খুব বিশ্বাস করত বাবা। বিশ্বাসটা একবার ভেঙে গেলে প্রাণীরা হয়তো কিছু বলে না, কিন্তু একসময় অপেক্ষা করাও বন্ধ করে দেয়।" আরিয়ান মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। সেদিন প্রথমবার তার মনে হলো, নিরুকে সে হয়তো কখনো সত্যিকারের আপন...